বাড়িতে থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন কোভিড-১৯ মহামারীকে পরাজিত করুন

Share

সম্পূর্ণ বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সার্স-কোভ-২ নামের একটি নতুন স্ট্রেন পৃথিবীকে নিশ্চল করে দিয়েছে একটি রোগের দ্বারা যাকে কোভিড-১৯ বলা হচ্ছে, কিন্তু যা এই ভাইরাস স্তব্ধ করতে পারে না তা হল মানবজাতির সহনশীলতা ও সঙ্কটের ক্ষণে ঘুরে দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। যেভাবে এই ভাইরাসকে আমরা পরাজিত করতে পারি, তার জন্য আপনাদের নিজেকে, আপনার পরিবারকে এবং আপনার প্রিয়জনকে সুরক্ষিত রাখতে আপনাকে কয়েকটি জিনিস করতে হবে যতক্ষণ না এই সংক্রমণ সম্পূর্ণরূপে দুর হচ্ছে।

এই ব্লগ পোস্টে, আমরা কি করা উচিৎ ও কি করা উচিৎ নয় সেই বিষয়ে কয়েকটি কথা শেয়ার করব যা এই সঙ্কট কাল কাটিয়ে উঠতে আপনাকে সাহায্য করবে। কিন্তু শুরু করার পূর্বে, মনে রাখবেন এই মহামারীকে পরাস্ত করতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে এবং আমরা সবাই এই যুদ্ধে সামিল। 

সামাজিক দূরত্ব রাখুন ও কমপক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন

“সামাজিক দূরত্ব” কথাটি তুলনামূলকভাবে ভারতীয়দের জন্য নতুন একটি পরিভাষা কারণ প্রাচীন কাল থেকেই নিজেদের প্রিয়জনদের সঙ্গে হয়ে থাকা এবং প্রায় প্রত্যেক আগত ব্যক্তিকে স্বাগত জানানো ভারতীয় সংস্কৃতির একটি অঙ্গ।    

তবে, সামাজিক দুরত্ব রাখা সময়ের চাহিদা এবং আমরা যত অধিক শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে পারি তত ভাল। এর কারণ কোভিট-১৯ ছড়িয়ে পড়ে যখন সংক্রমিত ব্যক্তি হাঁচে বা কাশে তার থেকে নির্গত লালার মাধ্যমে, এই ভাইরাস সুস্থ ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে এবং তাদের সংক্রমিত করে।

সৌজন্যে- বিবিসি

কারোর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অথবা অভিবাদন জানানোর সময় এক মিটার বা তার বেশি দূরত্ব বজায় রেখে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই রোগের সঙ্ক্রমণ থেকে

বাঁচাতে পারে। এই মহামারী আক্রান্ত সময়ে সেরা উপায় হল কারোর সঙ্গে করমর্দন না করা এবং প্রাচীন “নমস্কার” প্রথা অবলম্বন করা।

২০ সেকেন্ড সময় ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখুন। 

সম্পূর্ণ বিশ্বে ডাক্তার এবং গবেষক ২০ সেকেন্ড সময় ধরে হাত ধোয়ার গুরুত্ব নিয়ে অনেক কথা বলছেন এবং এর যথেষ্ট কারণ আছে। ভাইরাসের উপরের স্তরটি প্রোটিন ও ফ্যাট দ্বারা নির্মিত, এবং সাবান এই স্তরটি নষ্ট করতে পারে কিন্তু সাবান এই ভাইরাস ধ্বংস করতে ২০ সেকেন্ড সময় নেয়।   

২০ সেকেন্ড সময় ধরে কেন সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে, তা বোঝার জন্য নিচের ভিডিওটি দেখে নিন:  

সৌজন্যে – ভক্স

এছাড়াও, আপনি অবশ্যই হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখবেন যাতে অন্তত ৬০% অ্যাল্কোহল থাকে। কোনও বস্তু বা জায়গা স্পর্শ করার পরে নিজের মুখ, চোখ বা নাক স্পর্শ করার আগে এটি ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, হাত ও শ্বাস প্রশ্বাস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য বিধি পালন করাই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিরক্ষা!     

লকডাউন আপনার বন্ধু, আপনার শত্রু নয়

২১ দিনের লকডাউন যা আমরা ইতিমধ্যেই পালন করছি কোনও শাস্তি নয়: এটি রোগের ছড়িয়ে পড়া রোধ করার সেরা কার্যকরি উপায়গুলোর অন্যতম। যেহেতু এই ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য একটি ব্যক্তির মধ্যে কেবলমাত্র স্পর্শের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে, তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা প্রত্যেকে বাড়িতে থেকে এই শৃঙ্খলা ভঙ্গ করি।     

এখন আপনার কাছে সুযোগ দেশের জন্য আপনার ভুমিকা পালন করার, এবং আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এই সব কিছুর মধ্যে আপনি কি ভুমিকা পালন করবেন। এছাড়াও, আপনি আপনার পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ নিন, ভিডিও কনফ্রেন্স কল-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলুন বা আপনার প্রিয় বইটি পড়ুন অথবা সেই সিনেমাটি দেখুন যার জন্য আপনি এতদিন সময় বের করতে পারেন নি। আরও ভাল হয়, আপনার আন্তরিক শান্তি খুঁজে নিতে এই সময়টিকে কাজে লাগান এবং সেই কাজ করুন যা আপনি বরাবর করতে চেয়েছিলেন কিন্তু জীবন এগিয়ে যায় আর আপনিও দৈনন্দিন কাজকর্মের একঘেয়ে ছন্দে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।      

তাই, এই লকডাউন কেবলমাত্র ভাইরাসকেই দুর্বল করবে না, তার সাথে আপনার এক নতুন রূপ খুঁজে নিতে সাহায্য করবে যার অস্তিত্ব আপনি কোনোদিন জানতেন না! 

বাড়িতে থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন!